হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও উগান্ডার মধ্যে বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে উগান্ডার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির (Islamic University in Uganda) একটি প্রতিনিধি দল কাম্পালায় ইরানের সাংস্কৃতিক কার্যালয়ে সফর করে। সেখানে তারা ইরানের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি আলী-আসগার রেজায়ী দস্তজেরদির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ক্যাম্পাসের প্রধান হাজ্জাত মাদিনা নাবুকিরা সেবিয়ালা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর শাহাদাতের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বিনামূল্যে শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বপরিসরে, বিশেষ করে প্রকৌশল ও মানবিক বিদ্যায় ইরানি গবেষকদের সুনাম বিবেচনায় রেখে, ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করতে তাঁরা আগ্রহী।
তিনি জানান, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘মেয়েদের শিক্ষার জন্য দৌড়াও’ কর্মসূচির পঞ্চম আয়োজনের জন্য ইরানের সাংস্কৃতিক কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা ও সমর্থন চাওয়া। এই কর্মসূচি ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর (ইরানি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৫ মেহর ১৪০৫) উগান্ডার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির কাবোজ্জা (Kabojja) নারী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
নাবুকিরা সেবিয়ালা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং উগান্ডার সমাজের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর মতে, ‘মেয়েদের শিক্ষা’ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো মেধাবী ছাত্রীদের সহায়তা করা।
তিনি জানান, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং উগান্ডা সরকারের সহযোগিতায় ১৯৮৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে এটি অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা ও সামাজিক সেবা-এই তিন ক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, নারী ক্যাম্পাসটি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল মেয়ে ও নারীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি উচ্চশিক্ষায় নারীদের অবস্থান শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
‘মেয়েদের শিক্ষার জন্য দৌড়াও’ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, এটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছাত্রীদের সহায়তার জন্য পরিকল্পিত। এ পর্যন্ত এর চারটি আসর সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ আসরের মাধ্যমে ৭২ জন অসচ্ছল ছাত্রী তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী পঞ্চম আসরটি ১০ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। এর উদ্দেশ্য শুধু তহবিল সংগ্রহ নয়; বরং মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করা।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলকে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
এরপর উগান্ডায় ইরানের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি আলী-আসগার রেজায়ী উগান্ডার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির নারী শিক্ষা, মেয়েদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বিষয়ক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
তিনি ইরান ও উগান্ডার মধ্যে বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, উগান্ডার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র পর্যালোচনায় ইরানের সাংস্কৃতিক কার্যালয় প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে উগান্ডার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষর হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, বৃত্তি প্রদান, যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং দুই দেশের বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
শেষে তিনি বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোর, বিশেষ করে উগান্ডার সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক উন্নয়নে ইরান গুরুত্ব দেয় এবং এই বৈঠক দুই পক্ষের মধ্যে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার সূচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আপনার কমেন্ট